fbpx

Blog

Piston

ইঞ্জিনের চলমান কম্পোনেন্ট (Running Component) গুলোর মধ্যে পিষ্টন (Piston) অন্যতম। আর এই পিষ্টন দেখেন নি এমন কাউকে পাওয়া একটু কঠিন কাজ। কেননা গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহোলিং (Overhauling) এর সময় পুরো ইঞ্জিন এর সকল কম্পোনেন্ট কে একদম আলাদা করা হয়। আর তাই আজ আমরা এই পিষ্টন (Piston) সম্পর্কেই একটু বিস্তারিত ভাবে জানার চেষ্টা করবো।  

পিষ্টনের আকার আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়। এইটা নির্ভর করে ইঞ্জিনের আকার আকৃতির উপরে। সিলিন্ডারের উপরে লিকেজ যেন না হয় এই জন্য পিষ্টনের উপরের দিকে একের অধিক কম্প্রেশন রিং (Compression Ring) ব্যবহার করা হয়। পিষ্টন এবং সিলিন্ডারের দেয়ালে লুব অয়েল পৌছানোর জন্য পিষ্টনের নিচের দিকে এক বা ক্ষেত্র বিশেষে দুইটিও অয়েল কন্ট্রোল রিং (Oil Control Ring) ব্যবহার করা হয়। 

পিষ্টনের সাথে সবথেকে গুরুত্বপূর্ন কানেক্টিং রড (Connecting Rod) এর সংযোগ দেবার জন্য গাজন পিন (Piston Pin) ব্যবহার করা হয়। পিষ্টনের উপরের দিকটা বন্ধ এবং নিচের দিকটা খোলা থাকে। আর পাশের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুর কাছাকাছি গাজন পিন (Piston Pin) বসানোর ছিদ্র থাকে। 

যেহেতু পিষ্টন সিলিন্ডার এর ভিতরে উঠানামা করে তার মানে অবশ্যই এই দুই এর মাঝে একটি খুব সুক্ষ গ্যাপ আছে। আর এই গ্যাপ এর মাত্রা নির্ধারন করা হয় সিলিন্ডারের প্রতি ইঞ্চি ব্যাস অনুসারে। যদি সিলিন্ডারের ব্যাস ১ ইঞ্চি হয় তাহলে পিষ্টন এবং সিলিন্ডারের মাঝে গ্যাপ এর মাত্রা হবে ০.০০৭৫ থেকে ০.০০১ ইঞ্চি পর্যন্ত। আর এভাবে পিষ্টনের ব্যাস বাড়তে থাকলে গ্যাপ এর পরিমান বাড়তে থাকে। 

পিষ্টন কে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা হয়েছে। কখনো গঠনগত ও আকৃতি গত ভাবে আবার কখনো ধাতু এবং ওজনের ভিত্তিতে। আবার পিষ্টনের মাথা যেহেতু একেকটা একেক রকম এই জন্য মাথার গঠন অনুসারেও একে ভাগ করা হয়েছে। আবার যেহেতু কম্প্রেশন রিং এবং অয়েল কন্ট্রোল রিং রয়েছে। তাই এদের সংখ্যার উপর ভিত্তি করেও প্রকারভেদ করা হয়েছে। 

গঠন এবং আকৃতি অনুসারে দেখে নেই পিষ্টন কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ

  • ফুল স্কার্ট পিষ্টন।
  • হাফ স্লিপার পিষ্টন।
  • ফুল স্লিপার পিষ্টন।

পিষ্টন কে বিভিন্ন রকম ধাতু দিয়ে বানানো হয়ে থাকে। তাই এর ওজনেরও তারতম্য ঘটে। তাই ধাতু এবং ওজন অনুসারে একে ২ ভাগে  ভাগ করা হয়েছেঃ

  • হালকা পিষ্টন।
  • ভারী পিষ্টন।

হালকা পিষ্টন তৈরী করতে সাধারনত এ্যালুমিনিয়াম এবং এর শংকর ধাতু গুলো ব্যবহার করা হয়। ছোট ও কম ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিনে এই ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। আর ভারী পিষ্টন প্রস্তুত করতে ঢালাই লোহা,ইস্পাত,ক্রোম,নিকেল এইসব ধাতুর প্রয়োজন হয়। 

পিষ্টনের মাথার গঠন অনুসারে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

  • সমতল মাথা বিশিষ্ট পিষ্টন।
  • মাথায় গর্ত বিশিষ্ট পিষ্টন।
  • উত্তল পিষ্টন।

কম্প্রেশন ও অয়েল কন্ট্রোল রিং এর সংখ্যা অনুসারে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

  • ২ টি কম্প্রেশন এবং ১ টি অয়েল কন্ট্রোল রিং বিশিষ্ট পিষ্টন।
  • ৩ টি কম্প্রেশন এবং ১ টি অয়েল কন্ট্রোল রিং বিশিষ্ট পিষ্টন।
  • ৩ টি কম্প্রেশন এবং ২ টি অয়েল কন্ট্রোল রিং বিশিষ্ট পিষ্টন।

বর্তমানে প্রায় সকল ইঞ্জিনে ঢালাই লোহার পরিবর্তে এ্যালুমুনিয়াম ধাতুর তৈরীর পিষ্টন ব্যবহার করা হয়। কারন এই ধরনের পিষ্টনে তাপ এবং ক্ষয় এই দুই টি বিষয়ই রোধ করার ক্ষমতা বেশী। পিস্টন প্রস্তুতের সময় এর ভুমির ( পিষ্টনের উপরের তলকে বোঝায় একে ইংরেজিতে Land বলা হয়) পরিমান ০.০২০ ইঞ্চি থেকে ০.০৩০ ইঞ্চি রাখা হয়।  

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Some Recent Posts

Car

Engine not Starting

আজ গাড়ির একটি কমন সমস্যা নিয়ে (Vehicle Common Problem) আলোচনা করা যাক। যেই সমস্যাটিতে পড়েন নি এমন খুব কম মানুষ ই আছেন। আর সেটি হল

Read More »
Car

Car Air-condition system

চিন্তা করে দেখুনতো,গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কিন্তু আপনার গাড়ির এসি টি নষ্ট বা কাজ করছে না। কেমন হতো সেটি? চিন্তা করতেই দম বন্ধ হওয়া একটা

Read More »
Car

Piston Rings

আমরা সকলেই জানি গাড়ীর ইঞ্জিনের সিলিন্ডারের ভিতরে পিষ্টন উঠা নামা করে এবং সেখানে চারটি ষ্ট্রোক সম্পন্ন হয়। সেগুলো হলো সাকশান, কম্প্রেশন, পাওয়ার এবং এগজষ্ট। আর

Read More »