fbpx

Blog

History of Electric Car

জীবাশ্ম জ্বালানী (Fossil Fuel) এর একটি লিমিটেশন আছে। আর যখন থেকে এই জীবাশ্ম জ্বালানীর বানিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে তখন থেকে এর অল্টারনেটিভ কি হতে পারে সেটি নিয়েও ভাবতে শুরু করেছিলেন বিজ্ঞানী গন। ১৯ শতক এর আগে হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ড এবং আমেরিকার উদ্ভাবক গন সীমিত পরিসরে কিছু (Electric Car) ইলেক্ট্রিক কার প্রস্তুত করেছিলেন। 

২০ শতক এর দিকে পশ্চিমা বিশ্ব আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠলো। তারা ঘোড়ার বদলে বাষ্প ইঞ্জিন, গ্যাসোলিন ইঞ্জিন এবং ইলেক্ট্রিসিটি চালিত গাড়ির এর দিকে ধীরে ধীরে আগাতে শুরু করলো। কিন্তু এই ইলেক্ট্রিক গাড়ি ছাড়া সকল গাড়ি গুলোই স্টার্ট হতে মিনিমাম ৪৫ মিনিটের মত সময় লেগে যেত। এছাড়াও এটি অপারেট করার জন্য আরেক জন ব্যাক্তি প্রয়োজন। এই গাড়ি গুলোতে গিয়ার পরিবর্তন করা এবং ষ্টার্ট করা ছিল বেশ কষ্ট সাধ্য কাজ। এছাড়া প্রচুর শব্দ এবং এগজষ্ট এর গন্ধ ছিল অসহনীয়। 

অন্যদিনে ইলেক্ট্রিক গাড়িতে এই ধরনের কোন সমস্যা ছিল না। এছাড়া শব্দ না থাকা এবং এগজষ্ট এ কোন গন্ধ না থাকায় নগর বাসীদের কাছে এটি বেশ জপপ্রিয় হতে শুরু করলো। বিশেষ করে মহিলাদের কাছে। ১৯১০ সাল থেকে যখন ইলেক্ট্রিসিটি এর ব্যবহার সকলের কাছে পৌছে যায় তখন থেকে এই ইলেক্ট্রিক গাড়ি চার্জ করার আর চিন্তা থাকে না। 

ইলেক্ট্রিক কার এর এতো জনপ্রিয়তা অনেক উদ্ভাবক দের নজড় কেড়েছিল। আর ঠিক সেই মুহুর্তেই Dr Ferdinand Porsche  প্রথম  হাইব্রিড গাড়ি (Hybrid Vehicle) প্রস্তুত করেন। যে গাড়ি কিনা জ্বালানী এবং ইলেক্ট্রিসিটি দুইটি থেকেই পাওয়ার নিতে সক্ষম। Thomas A. Edison সেই সময়ে বিশ্বাস করতেন যে এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ইলেক্ট্রিক গাড়ি গুলোই ভালো মানের গাড়ির ব্যাটারি তৈরীতে সাহায্য করবে। ১৯০০ সালের দিকেই আমষ্টাডার্ম এবং নিউইয়র্কে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য ৬০-৭০ টি ইলেক্ট্রিক ট্যাক্সি রাস্তায়  নামানো হয়। 

ইলেক্ট্রিক গাড়ির ইন্ট্রুডিউস (Introduce) টা এমন সুন্দর হলেও মাঝে একেও বেগ পেতে হয়েছিল। যেটাকে ইলেক্ট্রিক গাড়ির জন্য অন্ধকার সময় বা ডার্ক টাইম (Dark Time) বলা হয়। ফোর্ড (Ford) এর প্রথম গাড়ি Ford-T যখন বাজারে আসে। তখন গ্যাস সহ সকল জীবাশ্ম জ্বালানী ছিল মানুষের সাধ্যের মধ্যে যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি এর ব্যবহার শুধুমাত্র শহর ছাড়া একদমই নেই। ডিজেল এবং পেট্রোল ইঞ্জিন গুলো তাদের যথেষ্ট উন্নতি করেছে। তারা তাদের ইমিশন কে নিয়ন্ত্রন করেছে, শব্দকে নিয়ন্ত্রন করেছে। আর জীবাশ্ম জ্বালানী সহজলভ্য হওয়ায়  ইন্টার্নাল কম্বাশন ইঞ্জিন (Internal Combustion Engine) এর চাহিদা রাতারাতি বেড়ে যায়। 

যখন পুরো পৃথিবী তেল এর উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে সে মুহুর্তে অনেক উদ্ভাবক গনই বিকল্প জ্বালানীর কথা আবার ভাবতে শুরু করেন। সেই মুহুর্তে জেনারেল মোটরস (General Motors) শুধুমাত্র শহরবাসীদের জন্য একটি ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল নিয়ে আসে এবং নাসা (NASA) এতে পুর্ন সহজোগিতা করে। কেননা নাসার প্রথম চাঁদে মানুষ বহন কারী ইলেক্ট্রিক গাড়ি Electric Lunar Rover। সেই গাড়ি ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় চলতে সক্ষম ছিল এবং প্রতি চার্জে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম ছিল। এভাবেই অনেক অটোমোটিভ কোম্পানি ইলেক্ট্রিক গাড়ির প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে উঠে।

১৯৯৭ সালে জাপানে টয়োটা (TOYOTA) তাদের প্রথম হাইব্রীড ইলেক্ট্রিক গাড়ি বাজারে আনে। যার নাম টয়োটা প্রিয়ুস (Toyota Prius)। এটি ইলেক্ট্রিক গাড়ির দুনিয়ায় একটি বিপ্লব এনে দিয়ে। ২০০০ সালে এটি সারা বিশ্বে পৌছে যায় এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশী উৎপাদিত ইলেক্ট্রিক গাড়ির খ্যাতি অর্জন করে। এছাড়া এটি বিক্রির দিক থেকেও সবথেকে এগিয়ে। 

এরপর ২০০৬ সালে সিলিকন ভ্যালির একটি ষ্টার্টআপ “টেসলা (Tesla)” ঘোষনা দেয় তারা লাক্সারি ইলেক্ট্রিক স্পোর্টস কার প্রস্তুত করবে। এই ঘোষনাতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল এই যে, তারা যেই গাড়িটি প্রস্তুত করতে যাচ্ছে তা একবার চার্জ দিলেই ৩২০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম।  টেসলার এই ঘোষনাতে বেশ কয়েকটি অটোমোবাইল কোম্পানি একদম নড়েচড়ে বসেন এবং তারা তাদের নিজস্ব ইলেক্ট্রিক কার উন্নয়নে ফোকাস করতে থাকে।

আর এরই ধারাবাহিকতায় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “নিশান” তাদের সম্পূর্ন ইলেক্ট্রিক গাড়ি বাজারে নিয়ে আসে। যার নাম নিশান লিফ (Nissan LEAF)। এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী বিক্রিত ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল বলা হয়ে থাকে। এই সময়টিতে প্লাগ ইন ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল কে আরও উন্নত করতে এবং এই গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিকে একইসাথে উন্নতমান এবং প্রায় ৫০% দাম কমিয়ে আনতে বেশ কিছু নতুন ব্যাটারি টেকনোলজি বাজারে আসে। যাতে করে গ্রাহকদের কাছে এর গ্রহনযোগ্যতা বাড়ে। 

অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি গুলো এখন বিশ্বাস করে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গাড়ি হল ইলেক্ট্রিক গাড়ি। আমেরিকা এবং ইউরোপে ৩০-৪০ টি আলাদা আলাদা মডেল এর ইলেক্ট্রিক গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ২০১৫ পর্যন্ত নরওয়ে তে ৭৪,০০০ গাড়ি এবং নেদারল্যান্ডে ৯০,০০০ এর বেশী ইলেক্ট্রিক গাড়ি ষ্টক এ ছিল যা এখন পর্যন্ত বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। আর আমেরিকাতে প্রায় ৪,১০,০০০ চীনে ২,৬০,০০০ এবং জাপানে ১,৩০,০০০ এর বেশী ইলেক্ট্রিক গাড়ি রাস্তায় চলছে। 

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Some Recent Posts

Car

Engine not Starting

আজ গাড়ির একটি কমন সমস্যা নিয়ে (Vehicle Common Problem) আলোচনা করা যাক। যেই সমস্যাটিতে পড়েন নি এমন খুব কম মানুষ ই আছেন। আর সেটি হল

Read More »
Car

Car Air-condition system

চিন্তা করে দেখুনতো,গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কিন্তু আপনার গাড়ির এসি টি নষ্ট বা কাজ করছে না। কেমন হতো সেটি? চিন্তা করতেই দম বন্ধ হওয়া একটা

Read More »
Car

Piston Rings

আমরা সকলেই জানি গাড়ীর ইঞ্জিনের সিলিন্ডারের ভিতরে পিষ্টন উঠা নামা করে এবং সেখানে চারটি ষ্ট্রোক সম্পন্ন হয়। সেগুলো হলো সাকশান, কম্প্রেশন, পাওয়ার এবং এগজষ্ট। আর

Read More »